বাবরি মসজিদের রায় ঘোষণাকারী বিচারপতি যৌন কেলেঙ্কারিতে অভিযুক্ত!

বিবা নিউজ ডেস্ক বিবা নিউজ ডেস্ক

সারা বিশ্বের প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ৩:৩৩ অপরাহ্ণ, নভেম্বর ১১, ২০১৯
শেয়ার করুনঃ

যৌন কেলেঙ্কারিতে ফেঁসেছেন ভারতের প্রধান বিচারপতি’ চলতি বছরের এপ্রিলে এমন শিরোনামে খবর প্রকাশিত হয়েছিল ভারতসহ আর্ন্তজাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমে।

আর সেই গুরুতর দোষে অভিযুক্ত বিচারপতি আর কেউ নন, বাবরি মসজিদের রায় ঘোষণাকারী বিচারপতি রঞ্জন গগৈ।

সে সময় উৎসব সিং বাইন্স নামের এক আইনজীবী রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ আনেন। গত ২৫ এপ্রিল ভারতের সুপ্রিমকোর্টে এক হলফনামায় তিনি এই অভিযোগ করেন।

রঞ্জন গগৈয়ের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্তার অভিযোগ করেন সুপ্রিমকোর্টের ৩৫ বছর বয়সী এক সাবেক নারী কর্মী। তিনি প্রধান বিচারপতির বাড়ির অফিসে জুনিয়র কোর্ট অ্যাসিস্ট্যান্ট ছিলেন।

তার অভিযোগ, ২০১৮ সালের অক্টোবর মাসে গগৈ তাকে যৌন হেনস্তা করেছেন।

প্রতিবাদ করায় তাকে প্রথমে ওই অফিস থেকে সরিয়ে দেয়া হয়, পরে চাকরি থেকেও। এই অভিযোগ জানিয়ে ওই নারী সুপ্রিম কোর্টের ২২ জন বিচারপতির কাছে হলফনামা পেশ করেন।

যৌন কেলেঙ্কারীর বিষয়টি অস্বীকার করে দেশের বিচার ব্যবস্থাকে পঙ্গু করে স্বার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে বড় কোনো শক্তি এই চক্রান্ত করেছে বলে দাবি করেন বিচারপতি গগৈ।

আর সেই বিচারকের কলমেই শনিবার ঘোষিত হলো হাইপ্রোফাইল বাবরি মসজিদ রায়।

কে এই বিচারপতি রঞ্জন গগৈ?

ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের ৪৬তম প্রধান বিচারপতি তিনি। তবে বাবরি মসজিদের রায় দিয়েই অবসরে যাচ্ছেন এই বিচারপতি। আগামী ১৭ নভেম্বর অবসর নেবেন তিনি।

রঞ্জন গগৈয়ের জন্ম ১৯৫৪ সালের ১৮ নভেম্বর আসামের ডিব্রুগড়ে। তার বাবা কেশবচন্দ্র গগৈ ১৯৮২ সালে আসামের মুখ্যমন্ত্রী হন।

দিল্লির সেন্ট স্টিফেন্স কলেজ থেকে ইতিহাসে স্নাতক করেন দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন নিয়ে পড়াশোনা করেন গগৈ।

১৯৭৮ সালে বার কাউন্সিলে যোগ দেন। ২০০১ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি ওই হাইকোর্টেরই স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন। ২০১১ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি পঞ্জাব এবং হরিয়ানা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি হিসাবে যোগ দেন।

২০১২ সালে তিনি সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি হিসাবে নিযুক্ত হন। তার ছয় বছর পর ২০১৮ সালে দীপক মিশ্র অবসর নেয়ার পর তিনি সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি হন।