প্রসঙ্গঃ মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিক। -তাকি নাজিব।

বিবা নিউজ ডেস্ক বিবা নিউজ ডেস্ক

সারা বিশ্বের প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:১৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ৮, ২০১৯
শেয়ার করুনঃ

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ২১ জুন পর্যন্ত ব্যাংকিং চ্যানেলে প্রবাসীরা ১ হাজার ৬০৩ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। প্রবাসী আয়ের এ পরিমাণ অতীতের যেকোনো বছরের চেয়ে বেশি। অব্যশ্যই এই খবরে আমরা যার দেশে কিংবা প্রবাসে থাকি তারা সুখী অনুভব করছি। যার রাজনীতি সাথে জড়িত তারা আবার কয়েক ধাপ এগিয়ে এটাকে তাদের সরকারের বিশেষ সাফল্য হিসাবে তুলেধরবে। কেউ এটাকে দেশে রেমিটেন্স যোদ্ধাদের সাফল্য হিসাবে তুলে ধরে আবেগে আপ্লুত হবে।

কিন্তু এর পাশাপাশি আরেকটি ভিন্ন চিত্রও আছে। সে ছবি অত্যন্ত নির্মম। নিষ্ঠুর সেই ছবি আমরা যারা শিক্ষিত ভদ্রলোক রয়েছি তার সামনে আনতে চাইনা,আমার-কি সমাজ, কি পরিবার, প্রবাসীদের রেমিটেন্স নিয়ে যতোটা আপ্লুত, তাদের প্রাপ্য অধিকার কিংবা মর্যাদা দিতে ততোটাই অনিচ্ছুক। ১৯ অক্টোবর ২০১৯ বিবিসি বাংলা এক প্রতিবেদনে বলছে,” অভিবাসন নিয়ে কাজ করে এমন একটি বেসরকারি সংস্থা বলেছে, ধর্ষণসহ নানা ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে এবছর ৯০০ জনের মতো বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মি দেশে ফেরত এসেছে।” এ বছর সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশী নারী গৃহকর্মির ৪৮ জনের মৃতদেহ দেশে আনা হয়। তাদের মধ্যে ২০ জনই সৌদি আরবে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে আত্মহত্যা করেছেন। বছর এখনো শেষ হয়ে যায়নি, মৃত্যুর শ্রোত বহমান। মানুষ মড়ছে, আর আমাদের রাষ্ট্রযন্ত্র রেমিটেন্স গুনছে। মনুষের রক্তে রাঙানো এই টাকায় ফুলেফেপে উঠা অর্থনীতির উপর দাড়িয়ে সরকার গলাবাজী করছে, উন্নায়নের গল্প শুনাচ্ছে।

খুলনার খালিসপুর এলাকা থেকে সালমা বেগম বলছিলেন, সৌদি আরবে নির্যতনের কারণে তার ছোট বোনের মৃত্যু হয়েছে। কোন বিচার তারা চাইতেই পারেননি। মৃতদেহও পেয়েছেন ঘটনার অনেক পরে।

অক্টোবরে প্রথমআলোয় প্রকাশিত এক সংবাদ মোতাবেক,গত সাড়ে আট মাসে দেশে ফিরেছেন ৮৫০ নারী। এর মধ্যে গত মাসে এক দিনেই ফিরেছেন ১০৯ জন নারী। তাঁদের অনেকে সেখানে শারীরিক-মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এর আগের বছর ফিরেছেন ১ হাজার ৩৫৩ জন নারী। তাদের অনেকে ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের শিকার হন সেখানে।

আসলে আমাদের ধান্দাবাজ সরকার দেশের উন্নায়নের কথা বলতে যতোটা স্বাচ্ছন্দ বোধকরেন, নিম্ন মধ্যআয়ের দেশ বলতে যতোটা গৌরব বোধকরেন, সাধারন মনুষের কথা তারা ততোটা ভাবতে চাননা। সম্প্রতি ফেইজবুকে ভাইরাল হওয়া এক ভিডিও লাইভে দেখাযায় সৌদিতে এক নারী শ্রমিক তার দূরদশার কথা বর্ননা করে তাকে বাচানোর আকুতি জানাচ্ছে।হৃদয় স্পর্শী সেই আবেদনে মানুষের চোখের জল ঝড়লেও এতে সরকার কিংবা দূতাবাসের টনক নড়েনি। তার ফলশ্রুতিতে কদিন পর বংলাদেশ ফেরত পায় সেই নারীর প্রানহীন মৃতদেহ।

মধ্যপ্রাচ্যে নারী শ্রমিকদের সঙ্গে কী ব্যবহার করা হয় তার ইতিহাস সকলেরই জানা। সেই নেক্কারজনক কর্মকান্ডের জন্যই ফিলিপাইন,ভারত,ইন্দোনেশিয়া, শ্রীলঙ্কা এমনকি নেপালও তাদের মেয়েদের সেখানে পাঠানো থেকে সরে এসেছে। ফিলিপাইনের এক মেয়েকে টুকরো টুকরো করে কেটে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। শ্রীলঙ্কার এক মেয়েকে দেশে ফিরিয়ে আনার পরে দেখা গেল, তাঁর শরীরে ২৪টি ছোট-বড় পেরেক ঢোকানো। শ্রীলঙ্কার আরেক নারী শ্রমিকের কথা আমরা জানি, যাকে সৌদি গৃহকর্তা ও তাঁর স্ত্রী মিলে পিটিয়ে আধমরা করার পর চুল কেটে তাঁর মাথার ওপর গরম ইস্তিরি দিয়ে থেঁতলে দিয়েছিল।

এমন ভয়াবহ অবস্থায় আমাদের সরকার সেখানে কিভাবে নারীদের প্রেরন করল। আর প্রবাসে আমাদের দূতাবাস গুলোতো রয়েছেই বিদেশে সফররত রজনৈতিক নেতা,মন্ত্রী আর ভিআইপি আমলাদের খেদমতের জন্য। দূর্নীতি তাদের রন্দ্রে রন্দ্রে,এবার দিনাজপুরের মোর্শেদা বেগম নামে এক সৌদিপ্রবাসী নারী শ্রমিকের ভাষ্য শোনা যাক, “অ্যাম্বাসিওয়ালা মনে করেন জেলখানা থেকেও বেশি কষ্ট দেয়। যে কাজ একবারে করা যায়, ওইটা ঘুরায় ঘুরায় করবে। আমাদের টাকা কেমনে পাব, কোন খোঁজ নেয়না, আমরা কী খাই, কেমনে আছি। বাংলাদেশে তো কল করা যায়না। আমি বাঁইচা আছি না মারা গেছি এইটা বাংলাদেশের কেউ জানেনাই এতদিন।”- বলছিলেন মোর্শেদা বেগম।(বিবিসি বাংলা) পাঁচ মাস আগে সৌদি আরবে কাজ করতে গেলেও দেশটির আবহাওয়া এবং কাজের চাপের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছিলেন না ‘রানী দাস’।এমন অবস্থায় তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসতে চাইলেও দূতাবাস থেকে তাকে কোন ধরণের সহায়তা করা হয়নি।
তার মতো এমন ছয়জন নারীকে এখন ভিক্ষাবৃত্তি করে খেতে হচ্ছে বলে জানান রানী দাস। এতো গেল দূতাবাস, আর প্রবাসী কল্যান মন্ত্রলায়ের উদাসীনতাতো আরো চোখে পড়ার মতে,ডেইলি স্টার-এর এক প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে ওই মন্ত্রণালয়ের একজন অতিরিক্ত সচিব বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। ওই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বলেছেন, কতিপয় প্রবাসী নারী শ্রমিকের আত্মহত্যা বা স্ট্রোকে মৃত্যুর তথ্য তাঁর জানা নেই।
হায়রে আমার বাংলাদেশ!!!! এই সরকার এই প্রশাষন কি মানুষের কথা বলে!!! এইকি তিরিশ লক্ষ প্রানের দামে কেনা সোনার বাংলা?
৪/১১/২০১৯
ভিয়েনা, অষ্ট্রিয়া।