করোনা ওষুধের কার্যকারিতা জানতে ২ সপ্তাহের অপেক্ষা

Nayem Nayem

Rahman

প্রকাশিত: ৩:৩২ অপরাহ্ণ, জুলাই ৫, ২০২০
শেয়ার করুনঃ

প্রাণঘাতী করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসায় কোন ওষুধ কার্যকর তা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে জানা যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস এক ভার্চুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে এমনই এক ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গত শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান এ কথা বলেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

ডাব্লিউএইচওর প্রধান জানান, করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য বেশ কয়েকটি ওষুধের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল পরিচালনা করেছিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এই ট্রায়ালের ফল হাতে আসতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস আরো বলেন, ৩৯টি দেশে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার রোগী বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরীক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। আমরা এসব পরীক্ষার অন্তর্বর্তী ফলাফল দুই সপ্তাহের মধ্যে আশা করছি।

এদিকে সংস্থার জরুরি প্রকল্পের প্রধান মাইক রায়ান জানিয়েছেন, ব্যাপকভাবে বিতরণের জন্য করোনার টিকা কখন প্রস্তুত হবে সেই সম্পর্কে আগাম মন্তব্য করা অবিবেচনাপ্রসূত। যেখানে টিকার এক উৎপাদনকারী হয়তো জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এর কার্যকারিতা সম্পর্কে জানা যাবে, সেখানে প্রশ্ন হচ্ছে কখন এর ব্যাপক উৎপাদন শুরু হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরীক্ষা চলছে পাঁচটি ভাগে। প্রথম ভাগে শুধু মানসম্পন্ন চিকিৎসার মাধ্যমে রোগীদের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দ্বিতীয় ভাগে পরীক্ষা চলছে অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির নিয়ে। এই ওষুধ নিয়ে বিশ্বজুড়েই আশার সঞ্চার হয়েছে। তৃতীয় ভাগে পরীক্ষাধীন রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উল্লেখিত ম্যালেরিয়ার ওষুধ হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন। চতুর্থ ধাপে পরীক্ষা চলছে এইডসের ওষুধ লোপিনাভির বা রিটোনাভির নিয়ে। আর পঞ্চম ধাপে এইডসের ওষুধের সঙ্গে ইন্টারফেরন প্রোটিন মিলিয়ে প্রয়োগ করে দেখা হচ্ছে।

অবশ্য সম্প্রতি হাইড্রোক্সিক্লোরোকুইন নিয়ে পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই ওষুধ করোনার চিকিৎসায় তেমন কাজের না বলে একটি গবেষণায় উঠে আসার পর ওই পদক্ষেপ নেয় সংস্থাটি। তবে ওষুধটি করোনা প্রতিরোধে কার্যকর কি না, তা যাচাইয়ের কাজ চলছে এখনো।