ভীমরতি যখন বাঁদরামিতে রুপ নেয়! মোহাম্মদ রুবেল, ভিয়েনা।

প্রকাশিত: ৩:৫৬ পূর্বাহ্ণ, মে ২৭, ২০২০
শেয়ার করুনঃ

মহাভারতের যাযাতির পিতার গল্প দিয়ে শুরু করা যাক।যাযাতির বাবা ছিলেন থুথুরে বুড়ো। হঠাৎ তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন একটি টগবগে তরুণী শাদী করবেন এবং চাকভাঙ্গা মধুর মতো নারীর যৌবনরস উপভোগ করবেন। তিনি তার ছেলেদেরকে ডেকে বল্লেন ওহে আমার বৎসগণ,তোমারা অন্তত হাজার বছরের জন্য আমার বৃদ্ধতা নিয়ে তোমাদের যৌবনটা আমাকে দাও।আমার বহুদিনের স্বাধ,আমি কোন অষ্টাদশী ষোড়শীর যৌবন আস্বাদন করি।জবাবে একে একে সব ছেলে তাদের বৃদ্ধ পিতার আকুতি প্রত্যাখ্যান করলো।ছেলেরা তাদের পিতাজীকে বল্লো হে পিতা, আপনি কি কখনো যমুনার জলকে উজানে যেতে দেখেছেন? যযাতির পিতা ক্ষুব্ধ হয়ে একে একে সব ছেলেকে বড় বড় অভিশাপ দিলেন। যযাতি শেষমেষ করজোড়ে দাঁড়িয়ে বললেন, পিতা, আপনার ইচ্ছেই পূর্ণ হোক। দিন আপনার বৃদ্ধতা আমাকে। আমি জঞ্জালের মতো একপাশে পড়ে থাকবো।গ্রহণ করুন আমার নবীন যৌবন, আর প্রতি নিশিতে প্রতি দিবসে আপনি নব নব বিক্রমে যুবতী রমণরণে অবতীর্ণ হোন।আপনার সুখ দেখলে, আমি সুখী হবো।তারপর থেকে যযাতি অথর্ব হয়ে রইলো, আর পিতা মহাশয় রমণী রমণ করতে থাকলেন।

আমাদের দেশের বুড়ো ভামেরা তরুণদের যযাতির মতো ব্যবহার করে তাদের নাম ধাম কৃতিত্ব প্রচার করছে। এই নচ্ছার, নর্থ প্রধানরা তাদের বেড়ে ওঠার ক্ষমতাটুকু পিঠ চাপড়ে যে নষ্ট করে দিচ্ছে, সেটুকু বুঝে ওঠার ক্ষমতা থাকলে কি দেশের এই করুন দশা হতো? একটা মুশকিলের বিষয় হলো আমাদের দেশের বেশির ভাগ মানুষ সুন্দরভাবে বুড়ো হতে জানেনা।তারা যত বুড়ো হয় তত বানর হয়।তরুণদের যোগ্য এবং প্রকৃত উওরসূরী করার কোন চিন্তা তাদের মাথায় নেই। সে কারণে বুড়ো ভামের দল তরুণদের তোয়াজ করে নিজের স্বার্থটা আদায় করে নিতে চায়।আর যদি তাই না হতো, আমার ৬৫ বছর বয়সী বন্ধু আবু নছিব কেন তৃতীয় বিয়ে করার জন্য বায়না ধরে।