পিতার লাশ পুত্রের কাঁধে,নাকি পুত্রের লাশ পিতার কাঁধে উত্তম? মোহাম্মদ রুবেল, ভিয়েনা।

বিবা নিউজ ডেস্ক বিবা নিউজ ডেস্ক

সারা বিশ্বের প্রতিচ্ছবি

প্রকাশিত: ২:৫৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৪, ২০২০
শেয়ার করুনঃ

ইয়োরোপ তার সুদীর্ঘ গৃহদাহ সমাপ্ত করে যখন রেঁনেসার জোয়ারে সুঘটিত হলো তখন তারা দৃষ্টি দিলো বর্হিবিশ্বের দিকে।নিজেরা জাতীয়তাবোধে উদ্বুদ্ধ হলেও সম্রাজ্যবাদী চেতনা তাদেরকে মোহাবিষ্ট করে তুল্ল।ব্রিটিশ, ডেনিশ, পর্তুগিজ ও ফরাসি কেউ কারো তুলনায় কম ছিলোনা। ইয়োরোপীয়রা বাণিজ্য করতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়লো এবং বণিকের মানদণ্ডকে রাজদণ্ডে রুপ দিলো।ইংরেজরা যখন ভারত জয় করলো তখন তারা ডিভাইড এন্ড রুলস পলিস প্রয়োগ করেছিল।ইংরেজরা জানতো ভারতীয়রা অত্যান্ত আবেগী ও ধর্মীয় সংবেদনশীল জাতি।একটা শাসকগোষ্ঠী যখন প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তখন ছলে বলে কৌশলে জনগণের অগ্রগতিকে পদদলিত করে।

ব্রিটিশ ভারতের একজন পুলিশ অফিসার ছিলেন যার নাম ছিলো ই,এম ফরেষ্টার।তিনি তার চাকরী জীবন সমাপ্ত করে ‘এ প্যাসেজ টু ইন্ডিয়া ‘নামীয় একটা বই লিখেছিলেন। এই বইতে তিনি দেখিয়ে ছিলেন সম্রাজ্যবাদীদের মনস্তাত্ত্বিক চরিএ।ব্রিটিশরা তখন ভারতে আসতো জাহাজে চড়ে ফলে কয়েক মাস সময় লেগে যেতো। তরুণ অফিসারেরা এই বইটি পড়তো এবং পড়াশেষে পানিতে ছুঁড়ে ফেলে দিতো।তরুণ অফিসারেরা বিশ্বাসই করতে পারতোনা তাদের কর্তাগণ ভারতীয়দের এমনভাবে শোষণ করতে পারে।অন্যদিকে ভারতীয়রা দেশাত্মবোধ হতে গোএ ও জাতপাতের প্রতি বেশীই অনুরাগী ছিলো।আপনারা মির্চা এলিয়াদ ও মৈএেয় দেবীর প্রনয়ের কথা সবাই জানেন। শিক্ষিত এই তরুন শাসকদের প্রতিনিধি হয়েও যখন ব্রাক্ষ্মণ কণ্যা মৈএেয় দেবীকে বিয়ে করতে না পেরে বলতে বাধ্য হয়েছে ‘লা নুই বেঙ্গলী’ তখন বিষয়টা সত্যি অবাক করার মতো ছিল।স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পরিবারের সদস্যরাও ভালো অভিজাত পরিবারে আত্মীয়তা বা বিয়ে করতে পারেনি কারন রবীন্দ্রনাথরা ব্রাক্ষ্মন ছিলোনা।তারা তাদের পরিবারের চাকর – বাকর বা গোমস্তাদের মেয়েকে বিয়ে করে সন্তুষ্ট থাকতে হতো।কাদম্বরী দেবীর সুইসাইড নোট সেটাই প্রমাণ করে। ভারত স্বাধীনতা লাভ করলে একবার মহাত্মা গান্ধী ইংল্যান্ড সফরে গিয়েছিলেন।বিমান বন্দরে সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্ন করেছিল,আপনি যে ভারত- কে স্বাধীন করলেন সে ভারতকে কবে নাগাদ ইংল্যান্ডের সমকক্ষ করতে পারবেন! গান্ধীজী জবাব দিয়েছিলেন, ব্রিটিশরা তাদের একটি শহরকে গড়তে কয়েকটা দেশ শোষণ করেছে। আর আমার পুরো ভারতকে ইংল্যান্ডের সমকক্ষ করতে হলে কয়েকটা মহা বিশ্বকে শোষণ করতে হবে।আপসোসের বিষয় হলো ব্রিটিশমুক্ত ভারতীয় উপমহাদেশ আজো প্রকৃত স্বাধীন নয়।সর্বএ বিভক্তি ও গণতান্ত্রিক স্বৈরতন্ত্র।

ইয়রোপের প্রধানতম সৌন্দর্য হলো বাকস্বাধীনতা ও ধর্মনিরপেক্ষতা।ধর্মীয় অবাদ স্বাধীনতা ও সমালোচনার অধিকার যে কোন সভ্যসমাজের অলঙ্কার যা ইয়োরোপ সাদরে গ্রহন করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক ডানপন্থার উস্থান ও উগ্রজাতীয়তাবোধ আমাদের শঙ্কিত করেছে। হয়তো তারা মনে করছে,বস্র যেমন মানুষের বাহ্যিক সম্ভ্রম রক্ষা করে তেমনি এই জাতীয়তাবোধ জাতির সম্ভ্রম রক্ষার প্রধান উপকরণ। পৃথিবীর সকল আবিষ্কার ও প্রচেষ্টার মধ্যে মানুষ শান্তি চায়।ইয়োরোপীয়রা সাধারণত দুটি বিষয়ে তর্কে জড়ায়না।বিষয় দুটো হলো ধর্ম ও রাজনীতি।এ দুটি বিষয় ইয়োরোপকে নিদারুণ যন্ত্রনা দিয়েছে প্রায় পাঁচশ বছর।বহু মানুষ স্বেচ্ছায় আমেরিকায় নির্বাসিত হতে বাধ্য হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর হতে আমূল বদলে যাওয়া ইয়রোপীয়রা আরো ক্লাসিক গ্রীক ও রোমান সাহিত্যের ন্যায় অনুরুপ অনুপম ও অনিন্দ্য হবে এটা আমাদের প্রত্যাশা। একটা ক্লাসিক উদাহরণ দিয়ে আজকের লেখার ইতি টানছি।

গ্রীক দার্শনিক হেরোডোটাসকে তার শিষ্য প্রশ্ন করেছিল,মহাশয় আপনি কার পক্ষে? যুদ্ধ না শান্তি? হেরোডোটাস উত্তর দিয়েছিলেন – বৎস আমি শান্তির পক্ষে,কারন শান্তির সময় সন্তান বহন করে পিতার লাশ আর যুদ্ধের সময় পিতার কাঁধে বইতে হয় সন্তানের লাশের কঠিন ভার।